ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, গৃহহীন দুই লাখের বেশি মানুষ প্রকাশিত: 12:42 PM, July 25, 2026 ফ্রান্স ও স্পেনে চরম তীব্রতায় ছড়িয়ে পড়া অনিয়ন্ত্রিত দাবানলে এক নজিরবিহীন মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আগুনের তাণ্ডবে দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ভস্মীভূত হওয়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যেই দুই লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও তীব্র বাতাসের কারণে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে প্রায় ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন। এছাড়া বোর্দোর আশপাশ থেকে নতুন করে প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপও পুরোপুরি খালি করা হয়েছে, যেখান থেকে অনেক মানুষ নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন। সারা বছর সেখানে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে জনসংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়। দমকল বাহিনীর প্রধান মার্ক ভারম্যুলেন জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ দাবানলের চেয়েও এবারের পরিস্থিতি বেশি বিপজ্জনক। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে আগুন রাতেও অব্যাহতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘এত বড় আকারের দাবানল আমরা আগে কখনো দেখিনি।’ জিরন্দ অঞ্চলে ইতোমধ্যে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং অন্তত ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ জানান, আগুন বারবার দিক পরিবর্তন করছে। আগুন যাতে বোর্দো শহরের দিকে অগ্রসর হতে না পারে, সে জন্য নতুন কৌশলে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। স্পেনে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। রাজধানী মাদ্রিদের কাছে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা দমকল বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। দেশটিতে অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রিদ অঞ্চলে দাবানলে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ হাজারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার মানুষ লকডাউনে রয়েছেন। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগুনের ছাই ও জ্বলন্ত কণা কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়ে যাচ্ছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, ‘দুটি দাবানল এক হয়ে যাওয়া ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’ আভিলা প্রদেশের এল তিয়েম্বলো এলাকার মেয়র আর্তুরো ভারাস গনসালেস জানান, নাভালুয়েঙ্গা থেকে ইরুয়েলস উপত্যকা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ আগুন আধা ঘণ্টারও কম সময়ে অতিক্রম করেছে। তার ভাষায়, ‘দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ।’ এ পর্যন্ত মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলের ৮৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ইকোলজিও কাবরেরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আপনি যদি আগুন থেকে না পালিয়ে তার মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেন, তবে সেটি আপনাকে গ্রাস করে ফেলবে।’ এদিকে স্পেনের বুর্গোহন্দো এলাকার দাবানলের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অবহেলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন এবং দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দাবানল মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করা হয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ অতিরিক্ত সহায়তা আসছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: আগুনআন্তর্জাতিকদাবানলফ্রান্সস্পেন