শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে অমিত শাহের কাছে জবাব চাইলেন রাহুল

প্রকাশিত: 5:00 PM, July 26, 2026

দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ‘বর্বর হামলার’ কড়া সমালোচনা করে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ২৫ জুলাই লেখা এই চিঠিতে তিনি তরুণদের ওপর পেলেট গানসহ অন্যান্য ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে দিয়েছিলেন কিনা, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

রাহুল গান্ধী চিঠিতে উল্লেখ করেন, যেকোনো গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্দোলনকারীদের রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। ২০ জুলাই দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছিল, কিন্তু তাদের কথা শোনার বদলে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

চিঠিতে হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে বলা হয়, শত শত শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। নারী শিক্ষার্থীদের গোপনাঙ্গ নিশানা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে পেলেট গানের ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী সাহিল লোচাব এই গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে চোখ হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি সরাসরি প্রশ্ন রাখেন, “দিল্লিতে মোতায়েন করা নিরাপত্তা বাহিনী আপনার কাছেই জবাবদিহি করে। তাই আমি জিজ্ঞেস করছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আপনি কি শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গানসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন? যদি আপনি না দিয়ে থাকেন, তবে কে দিয়েছে?” এছাড়া সাদা পোশাকে লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের পেটানো ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের মোতায়েনের নির্দেশদাতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয় ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে। পরবর্তীতে ২৮ জুন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক এতে যোগ দিলে আন্দোলনটি জাতীয় পর্যায়ে গতি পায়। ২০ জুলাই জে পি নাড্ডার বাসভবনে সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক আলোচনার দিনই পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রারত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২৫ জুলাই লেখা ওই চিঠিতে রাহুল গান্ধী বলেন, ২০২৬ সালের ২০ জুলাই দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বর হামলা হয়েছে, আমি তার জবাবদিহি চাইতে এই চিঠি লিখছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছিল। কিন্তু তাদের কথা শোনার বদলে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র ও ক

গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে এই আন্দোলন শুরু হয়। তবে ২৮ জুন প্রখ্যাত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক এতে যোগ দিয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ৬ কর্মীর সঙ্গে আমরণ অনশনে বসলে এটি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক গতি পায়। সরকারের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক।