চাকরির প্রতিটি পদের বিপরীতে পাঁচ-ছয় লাখ আবেদন: মির্জা ফখরুল প্রকাশিত: 4:00 PM, July 26, 2026 দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি এবং চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে একটি পদের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ আবেদন জমা পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমানে অফিস সহায়কের মতো সাধারণ পদেও হাজার হাজার আবেদন আসছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের লেভেল-১, সেমিস্টার-১ শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বেকারত্বের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কামার, কুমার, তাঁতি, শিল্পী ও খেলোয়াড়সহ সব পেশার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসারে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে ‘অ্যাগ্রিকালচার হাব’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি হতে হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে। গত ১৭ বছরে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমান সরকার সেগুলো পুনর্গঠনের কাজ করছে। তবে এ কাজ সহজ নয়, এর জন্য আত্মবিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছে। সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বদ্ধপরিকর জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পচনশীল পণ্যের সংরক্ষণ, সরবরাহব্যবস্থা জোরদারে স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবদুল লতিফ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশার, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইসলাম এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান বক্তব্য রাখেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: চাকরিবেকারত্বমির্জা ফখরুলশিক্ষিত বেকারসৃজনশীল অর্থনীতি