র্যাবের গোপন সেলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আটকে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর প্রকাশিত: 3:08 PM, August 1, 2026 র্যাব-১ কার্যালয়ের গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’-এ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম শনিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে ওই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষটি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বিচারকদের শুধু নথি বা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। পরিদর্শনে ভবনটির ভেতরে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২২টি কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আমিনুল ইসলাম জানান, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো এবং তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হতো। চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, তদন্তকারীরা সেটিও শনাক্ত করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি। গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ফিরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে আয়নাঘরের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারা অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আয়নাঘরের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। তিনি বলেন, অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। পরিদর্শনের সময় ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামত পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে কয়েকটি স্থানে নতুন করে নির্মিত দেয়াল অপসারণ করা হয় এবং আড়ালে থাকা কক্ষগুলো বেরিয়ে আসে। নিচতলার একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, যারা এসব কক্ষের অস্তিত্ব গোপন করার চেষ্টা করেছেন বা প্রমাণ নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান, র্যাব-১ এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র, জেআইসি, পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী শনিবার বিচারকেরা সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন। মাঠপর্যায়ে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের পাশাপাশি যাদের নির্দেশে এসব হয়েছে এবং সে সময়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়ও ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। SHARES জাতীয় বিষয়: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালআয়নাঘরটিএফআই সেলর্যাব-১সালাহউদ্দিন আহমেদ