সীমান্তে রেল অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৫ হাজার কোটি রুপির বিনিয়োগ পরিকল্পনা ভারতের প্রকাশিত: 12:02 PM, August 3, 2026 বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় রেল অবকাঠামো আধুনিকায়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্যে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নয়াদিল্লি। প্রকল্পের আওতায় পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, আসাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান রেল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা হবে। ভারতের মোট রেল অবকাঠামো ব্যয়ের প্রায় ২২ শতাংশই এই সীমান্তভিত্তিক প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সীমান্ত অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই উদ্যোগের পেছনে বেসামরিক যোগাযোগের উন্নয়নের পাশাপাশি কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যও রয়েছে। অবকাঠামোগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে প্রয়োজনে দ্রুত সেনা ও সামরিক রসদ পরিবহনে সুবিধা হবে। হিমালয় অঞ্চল, শিলিগুড়ি করিডর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সব ধরনের আবহাওয়ায় কার্যকর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ভারতের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি নয়াদিল্লির সতর্কতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেও এই অবকাঠামো জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত এর আগেও সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। এর মধ্যে পাকিস্তান সীমান্তে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ডোকলাম এলাকার কাছাকাছি অবকাঠামো উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য। গত এক দশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন যুক্ত হয়েছে এবং কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপনে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৬২ সালের পর অচল থাকা বেশ কিছু অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড পুনরায় চালু করে সেখানে সামরিক আকাশযান ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, চীনও ২০১৭ সালের ডোকলাম অচলাবস্থার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় হেলিপোর্ট, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করেছে, যা সীমান্ত অঞ্চলে তাদের সেনা মোতায়েন ও সরবরাহ সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: চীনপাকিস্তানবাংলাদেশভারতরেল অবকাঠামোসীমান্ত নিরাপত্তা