ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ৮ জন নিহত, আহত ৬২

প্রকাশিত: 9:42 AM, July 19, 2026

ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৬২ জন আহত হয়েছেন বলে রুশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি লজিস্টিক গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

মস্কো থেকে প্রায় ৪৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তামবভ শহরের একটি গুদামে ড্রোন আঘাত হানলে সাতজন নৈশকালীন কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সেখানে আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইভজেনি পারভিশভ এই হামলাকে ওই অঞ্চলের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় ও অমানবিক’ ড্রোন হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অপরদিকে, মস্কো অঞ্চলের ইলেকট্রোস্টাল এলাকায় অবস্থিত ওয়াইল্ডবেরিজের দ্বিতীয় গুদামে হামলায় একজন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশাল গুদাম ভবন থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া উঠছে এবং আতঙ্কিত শ্রমিকরা নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিভ জানান, ইলেকট্রোস্টালের গুদামে আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও জানান, ওই অঞ্চলে রাতভর প্রায় ৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে একটি ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ রাশিয়ার একটি তেল ডিপোতে পড়লে সেখানেও আগুনের সৃষ্টি হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার দায় স্বীকার করে বলেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হতো। জেলেনস্কি জানান, আজভ সাগর, কৃষ্ণ সাগর এবং রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াতেও একই অভিযানের অংশ হিসেবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের শহর ও বেসামরিক স্থাপনায় রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে।

রাশিয়ার ‘অ্যামাজন’ হিসেবে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজ দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ সালের ফোর্বস রাশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী তাতিয়ানা কিম ঘটনাটিকে রাশিয়া ও তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ‘ভয়াবহ রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে হামলাস্থলগুলোতে রাশিয়ার জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু, কারণ এসব খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থ মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করছে।