রিয়াদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: জ্বালানি স্থাপনায় সতর্কতা

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার ভোরে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং এরপরই কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। গত জুলাই মাসে হুতিদের হামলা বৃদ্ধির পর এই প্রথম রিয়াদে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সকালে রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সৌদি জোটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রিয়াদ ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিশ, তাইফ, ফারাসান এবং লোহিত সাগরের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একাধিক আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, রাজধানী সানায় সৌদি আগ্রাসনের জবাবে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মাধ্যমে রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনা ও ইয়ানবুর আরামকো তেল ডিপোতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে সৌদি জোট ইয়েমেনে তিন শতাধিক হামলা চালিয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে রিয়াদের সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন। এদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এক দেশের ওপর হামলা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।