পরমাণু চুক্তি এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের কথা ভাবছে ইরান

প্রকাশিত: ১২:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৫৬

পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বেলা ১১:৫৬ মিনিটে এ খবর জানা যায়। বার্তা সংস্থা মেহরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া বিলও প্রস্তুত করা হয়েছে।

ইব্রাহিম আজিজি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে অবস্থান সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, 'রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'-এর ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্ভূত সমীকরণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব বিষয়ের প্রতিটিই আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তীব্র সমালোচনা করেন এই ইরানি কর্মকর্তা। তিনি অভিযোগ করেন, আইএইএ দীর্ঘদিন ধরে তার কারিগরি ও বিশেষায়িত ভূমিকা থেকে বিচ্যুত হয়ে একটি রাজনৈতিক ক্লাবে পরিণত হয়েছে। আজিজি বলেন, দুঃখজনকভাবে সংস্থাটি এখন আর তার মূল পেশাদারিত্ব বজায় রাখছে না, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের মতো আধিপত্যবাদী দেশগুলোর ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অথচ আইএইএর নিজস্ব সনদ অনুযায়ী তাদের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়িত্ব অর্পিত ছিল, যা পালনে তারা বছরের পর বছর ধরে ব্যর্থ হচ্ছে।

এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আজিজি জানান, ‘এনপিটি থেকে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি বিলের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশন এবং আইন প্রণয়নবিষয়ক উপ-দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের সব স্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে একটি অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।