রেকর্ড লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই ১০ ঘণ্টা

প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬

তীব্র দাবদাহের মধ্যে বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়লা ও গ্যাস সংকটের পাশাপাশি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা চরম চাপের মুখে পড়েছে। রোববার বিকাল ৩টায় সারা দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়, যা নতুন এক রেকর্ড। এর আগে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, তবে রোববার তা বেড়ে তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। অনেক এলাকায় সারাদিন ও রাতে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পিডিবির কর্মকর্তাদের মতে, এমন বিদ্যুৎ সংকট আগে খুব একটা দেখা যায়নি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ-পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকাল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। বিকাল ৫টায় সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালেও লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, ভারতের আদানি গ্রুপ তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। সাধারণ পিক আওয়ারে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হলেও রোববার বিকাল ৫টায় তা ছিল মাত্র ৮১৫ মেগাওয়াট। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় মজুত কমে গেছে বলে আদানি গ্রুপ পিডিবিকে জানিয়েছে। এছাড়া বড়পুকুরিয়া, বরিশাল ইলেকট্রিক কোম্পানি, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপাল ও এসএস পাওয়ারের মতো কেন্দ্রগুলোতেও কয়লা সংকট ও যান্ত্রিক কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭১০ মেগাওয়াট। একইভাবে এসএস পাওয়ারের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট হলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ১৬৩ মেগাওয়াট।

গ্যাস সংকটের কারণেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র তিন হাজার ৫৮৯ মেগাওয়াট। গ্যাস সংকট থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট এবং কয়লা ও অন্যান্য কারণে আরও অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি মিলে মোট তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কম হওয়ায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সরবরাহ দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুট কমে গিয়েছিল। ৫ আগস্ট রাতে আংশিক সরবরাহ শুরু হলেও রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুই টার্মিনাল থেকে মোট ৭৫ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে, যা আগের ১১০ কোটি ঘনফুটের তুলনায় অনেক কম।