পুলিশ প্রশাসনে সংস্কার ও মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রথম ছয় মাসেও এই বাহিনীতে কার্যকর কোনো সংস্কার দৃশ্যমান নয়। ফলে পুলিশের কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ভেতরে-বাইরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের ওপর অর্পিত ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারছেন না এবং নানা বিতর্কের মুখে বাহিনীটি ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা এখন মাঠ পর্যায়ে পুলিশকে পেশাদার, গতিশীল ও জনমুখী করে তোলার জন্য নতুন করে ভাবছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা বঞ্চিত হওয়ার কার্ড খেলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কর্মকর্তাদের কাজের পারফরম্যান্স, সততা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড করা জরুরি। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, পদায়ন ও মূল্যায়নে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সততাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এবং অযাচিত প্রভাব রুখতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ও সাবেক আইজিপি খোদা বকস চৌধুরী ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, ওসি-এসপি পদে পদায়নে যোগ্যতার চেয়ে অন্য বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সিআরপিসি অনুযায়ী ওসিদের আইনি ক্ষমতা থাকলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তারা তা স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, তার সময়কালেও অনেক ওসিকে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে বললেও তারা তা করেননি। তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ আগস্টের পর এক শ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা নিজেদের 'বঞ্চিত' দাবি করে পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন, তাদের পারফরম্যান্সের সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ হচ্ছে না। এর ফলে যোগ্য কর্মকর্তারা পিছিয়ে পড়ছেন। এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, আগামী ১৩ অক্টোবর বাহিনীর ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশনা আসতে পারে। বিশেষ করে কনস্টেবল ও এএসপি ছাড়া অন্যান্য পদে সরাসরি নিয়োগ বন্ধের প্রস্তাব এবং এএসপিদের থানা পর্যায়ে ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া কনস্টেবলদের এসআই হিসেবে পদোন্নতির আগে ৩ বছর মেয়াদি গ্র্যাজুয়েশন কোর্স করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপি মন্তব্য করেছেন যে, ৫ আগস্টের সংকটময় সময়ে কার কী অবদান ছিল তার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সেটআপে বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সহযোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। একজন ডিআইজি বলেন, সংবেদনশীল জায়গায় এখনো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অনুসারীরা প্রভাব বিস্তার করছে, যা চেইন অব কমান্ড বিনষ্ট করছে। ফিটলিস্ট বা নীতিমালা ছাড়া পদায়ন করায় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ছে, যা নিরসনে পেশাদার মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। SHARES অন্যান্য বিষয়: জননিরাপত্তাপুলিশপুলিশ প্রশাসনমূল্যায়নসংস্কার