বিএনপির নতুন মহাসচিব হিসেবে রিজভীর নাম নিয়ে জোরালো আলোচনা প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোরালো হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত শনিবার মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার লিখিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি খালি হবে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে নতুন মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। দলীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি অস্বাভাবিক না হলে বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদই পরবর্তী মহাসচিব হতে যাচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মহাসচিবের দৌড়ে রিজভী ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন। বর্তমানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ডা. জাহিদ হোসেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হওয়ার পেছনে তার দীর্ঘদিনের রাজপথের সক্রিয়তা ও ত্যাগের ইতিহাস কাজ করছে। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থেকে ঝুঁকি নিয়ে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করায় তৃণমূলের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। রিজভী নিজে অবশ্য জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি বলেন, দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়েই কাজ করছেন এবং দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রিজভীই সবচেয়ে উপযুক্ত। এছাড়া ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল যেভাবে ভারপ্রাপ্ত থেকে স্থায়ী মহাসচিব হয়েছিলেন, রিজভীর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন নেতা বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘসময় ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: বিএনপিমির্জা ফখরুলরাজনীতিরাষ্ট্রপতি নির্বাচনরুহুল কবির রিজভী