২৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাটে মাজেদুরের নেতৃত্ব: দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্য প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬ প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএএম মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি মালদ্বীপ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও তার পরিবারের সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় মাজেদুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রিমিয়ার ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে মাজেদুর রহমান ব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদের সদস্য সচিব হিসেবে চেক, বিল ও ভাউচার অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। এইচবিএম ইকবাল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে মিলে তিনি বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ইকবাল সেন্টার ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকা, ভুয়া ঋণ হিসেবে ৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা এবং স্টেশনারি খাতে ব্যয় দেখিয়ে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া এফডিআর জালিয়াতি ও বিপিএলসহ বিভিন্ন প্রচারের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। দুদকের নথিতে মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল নির্বাহী পর্ষদের ৯০১ নম্বর সভায় ‘কালার ওয়েব’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, যার সদস্য সচিব ছিলেন মাজেদুর। বাস্তবে ২৫ হাজার প্রতিবেদন তৈরি করে ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও কার্যাদেশে ৬ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়, যার মাধ্যমে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ক্যালেন্ডার তৈরির নামে ৩ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্যও দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিএফআইইউ-এর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তালিকায় মাজেদুর রহমানকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর নভেম্বরে আদালত তারসহ মোট ২০ জনের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। দুদক জানিয়েছে, মাজেদুর রহমান বারবার বিদেশে যাওয়ার জন্য আদালতের অনুমতি চাইলেও চলমান তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া এইচবিএম ইকবালের মালিকানাধীন ইকবাল সেন্টার সিলগালা করে বিপুল পরিমাণ নথি ও রেকর্ডপত্র জব্দ করেছে দুদক, যা এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অভিযোগের বিষয়ে কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি দাবি করেন, ক্যালেন্ডার ও টিভি বিজ্ঞাপনের অনিয়মের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে সদস্য সচিব বলে কোনো পদ নেই এবং এমডি হিসেবে তার ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না। তার দাবি, দুদকের যে প্রতিবেদনের কথা বলা হচ্ছে তা মূলত তৃতীয় পক্ষের অডিট রিপোর্ট, দুদক এখনো কোনো তদন্ত করেনি। SHARES জাতীয় বিষয়: আর্থিক অনিয়মএইচবিএম ইকবালদুদকপ্রিমিয়ার ব্যাংকমাজেদুর রহমান