প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগের আগ্রহ কমছে সঞ্চয়কারীদের, বিক্রিতে বড় ধস প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের আগ্রহে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রাইজবন্ড থেকে মূল অর্থ ও মুনাফা প্রদানের হারও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে প্রাইজবন্ডের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ গ্রহণের সরকারি প্রবণতাও এখন নিম্নমুখী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপযুক্ত প্রচারের অভাব এবং বাজারে প্রাইজবন্ডের তুলনায় অধিক লাভজনক ও সহজলভ্য সঞ্চয়ী উপকরণ থাকার কারণেই মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রাইজবন্ড চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড রয়েছে। এর আগে ১৯৯৫ সালে ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের বন্ড বাতিল করা হয়েছিল। শুরুর দিকে বিয়ে, জন্মদিন বা পারিবারিক উৎসবে উপহার হিসেবে প্রাইজবন্ড দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও সময়ের সঙ্গে এর গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা, ডাকঘর এবং জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে যে কেউ প্রাইজবন্ড কিনতে পারেন এবং এতে কোনো বিনিয়োগ সীমা নেই। যদিও এতে কোনো সুদ বা মুনাফা নেই, তবুও প্রতি তিন মাস পরপর বছরে চারবার লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রাইজবন্ডে মোট ৪৬টি সিরিজ রয়েছে এবং প্রতিটি সিরিজের জন্য পৃথক পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে। প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার সোয়া ৩ লাখ টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা (২টি), চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা (২টি) এবং পঞ্চম পুরস্কার ১০ হাজার টাকা (৪০টি)। প্রতি ড্রতে মোট ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়। লটারির ড্রয়ের দুই বছরের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হয় এবং অর্থ স্থানান্তরের আগে ২০ শতাংশ আয়কর কর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাইজবন্ডের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড বিক্রি হলেও গত অর্থবছরে তা কমে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি কমেছে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ২১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে মূল অর্থ পরিশোধ করা হয় ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং লটারির ড্র বাবদ ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা গ্রস বিক্রির চেয়ে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি। এই বাড়তি অর্থের জোগান সরকার অন্য খাত থেকে দিয়েছে। এর আগের অর্থবছরেও গ্রস বিক্রির চেয়ে ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল সরকারকে। মূল অর্থ পরিশোধের হারও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে মূল অর্থ পরিশোধ কমেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ কমেছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, প্রাইজবন্ডের প্রচার এখন প্রায় বন্ধ। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই। এছাড়া মূল্যস্ফীতির কারণে ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড এখন আর আগের মতো আকর্ষণীয় নয়। তিনি প্রাইজবন্ডকে জনপ্রিয় করতে ১ হাজার টাকা বা ৫০০ টাকা মূল্যমানের নতুন বন্ড বাজারে আনা এবং মুনাফার ওপর কর তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বিনিয়োগ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধ বাবদ অর্থ বাদ দিয়ে নিট বিক্রি ছিল ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মূল টাকা ও লটারির ড্র এই দুটি মিলে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ১১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রস বিক্রির চেয়ে পরিশোধ করা হয়েছে ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি। এই বাড়তি অর্থ সরকারকে অন্য খাত থেকে এনে জোগান দিতে হয়েছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: অর্থনীতিপ্রাইজবন্ডবাংলাদেশ-ব্যাংকবিনিয়োগসঞ্চয়পত্র