বিকল্প পথে তেল পাঠাবে সৌদি আরব, বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানির দাম

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

সৌদি আরবের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ওমানের উপকূলে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এই নতুন উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ-সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ দশমিক ৪০ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার তেলের দাম তিন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর বিশ্ববাজারে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই নতুন প্রস্তাব সেটি কিছুটা কমিয়ে এনেছে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরব তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পারছে—এমন খবর বাজারে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা হ্রাস করেছে। এর আগে জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল যে ইয়ানবু বন্দর থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং রিয়াদ ইউরোপের কিছু ক্রেতার জন্য চালান বাতিল করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের তথ্যেও কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে, যা আগের দিন ছিল সাতটি এবং গত ১০ দিনের গড় ১৮টির তুলনায় বেশ কম।

যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পরিস্থিতির প্রভাবও তেলের দামের ওপর পড়েছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে, যা বিশ্লেষকদের ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের মজুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষক জন কিলডাফ মত দিয়েছেন।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখনো বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। ইয়েমেনে সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলা এবং অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের সৌদি শহর ও ইয়ানবু বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত রেখেছে। সিটি গ্রুপের মতে, এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দামের ওপর এর প্রভাব পড়বে। ব্যাংকটির ধারণা, আঞ্চলিক কূটনৈতিক সহায়তায় ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে।