৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, ভোট হবে ‘ওপেন ব্যালটে’ প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬ দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা কোনো গোপন ব্যালটে নয়, বরং প্রকাশ্যে বা ‘ওপেন ব্যালটে’ ভোট দেবেন। এর ফলে কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা উপস্থিত সবার কাছে দৃশ্যমান থাকবে। নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুই প্রার্থীর মধ্যে। বর্তমান সরকারি দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদে দলটির সংসদীয় সভায় ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, মির্জা ফখরুলের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১-দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। বাংলাদেশে সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে ব্রিফ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’ এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে এই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এমন ভোট না হওয়ায় অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশন না থাকায় সিইসি নিজেই সংসদ সদস্যদের বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে গত ১১ আগস্ট গ্যাজেট প্রকাশ করেন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল—যার মধ্যে অলি আহমদের পক্ষে দুটি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি। যাচাই-বাছাইয়ের পর তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী অলি আহমদের দুটি বৈধ মনোনয়নের একটি বাড়তি হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে দুই প্রার্থীর মধ্যে এই লড়াই হচ্ছে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কেউ নাম প্রত্যাহার করেননি। সিইসি জানান, সংসদীয় সীমানার পরিবর্তে সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের উপনির্বাচনের কারণে ভোটার তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও তা নিয়মানুগভাবে সমাধান করা হয়েছে এবং মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে এবং সিইসি নিজেই ফলাফল ঘোষণা করবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি বিটিভির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোটের দিন হাউজের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না এবং এই নির্বাচনকে ঘিরে অতিরিক্ত ব্যয়ের তথ্যকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সিইসি। এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার আইনকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ভোটার করার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল আলম ফুয়াদ এই রিটটি দায়ের করেছিলেন, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে গত মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের করা আরেকটি রিট আবেদন খারিজ করে দেন। রিটকারী আইনজীবী বুধবার এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। রিটকারীদের দাবি ছিল, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যাহত করে। ভোটার তালিকার ক্রমিকে কিছুটা বৈচিত্র্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সিইসি জানান, সংসদীয় সীমানার সিরিয়াল অনুযায়ী পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু হয়ে বান্দরবানে গিয়ে ৩০০ আসন শেষ হলেও এই নির্বাচনে মূলত সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী ভোটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের উপনির্বাচন বা শূন্যতার কারণে ভোটার তালিকায় বিভক্তি নম্বরে কিছুটা ডিসকন্টিনিউইটি রয়েছে। তবে তা নিয়মানুগভাবেই সমাধান করা হয়েছে এবং মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জন। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: ওপেন ব্যালটকর্নেল অলি আহমদজাতীয় সংসদনির্বাচন কমিশনমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররাষ্ট্রপতি নির্বাচন