ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনে দিল্লির সম্পৃক্ততা বাড়ানোর তাগিদ

প্রকাশিত: ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর তাগিদ দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস। পত্রিকাটির একটি সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় ঢাকার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে দিল্লির উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো। অভিন্ন নদী, রেলপথ, জ্বালানি অবকাঠামো এবং প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগাভাগি করা এই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক নতুন করে শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।

সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সহজ নয়, তবে এ ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা সাফল্যও পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে ইতিমধ্যে কিছুটা শীতলতা নেমে এসেছে। ভারতের আমন্ত্রণে তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফরের বিষয়টি ফেব্রুয়ারি থেকেই ঝুলে আছে, যার পেছনে যুক্ত হয়েছে কিছু কঠিন শর্ত। এছাড়া বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাত ভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমসটেক)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও রয়েছে তাঁর কাছে।

চলতি মাসের শুরুতে নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিতর্কিত ভার্চুয়াল সংবাদ সংযোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ কিছু কঠোর শর্ত সামনে এনেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শেখ হাসিনা এবং আরও কয়েকজন কথিত অপরাধীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা, যাতে সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি তারা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখছে।

এদিকে, ভারতে নির্বাসিত থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানালে তা ঢাকার বর্তমান সরকারের জন্য মোটেও সুখকর বার্তা ছিল না। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান 'চেকবুক কূটনীতি' এবং ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা বৃদ্ধিও দিল্লির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দিল্লি বা রাওয়ালপিন্ডি নয়, তাঁর মূল বিশ্বাস 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতিতে। মর্যাদা, সমতা, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে তিনি ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

অর্থনৈতিক দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হলো ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৩৭.৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়। এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নেপাল, ভুটান ও বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য যতই থাকুক না কেন, কঠোর শর্তারোপের মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব নয়। বরং শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি সংলাপের মাধ্যমেই এটি সমাধান করা উচিত এবং তারেক রহমানের ভারত সফরই হতে পারে এই নতুন সূচনার প্রথম পদক্ষেপ।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য থেকে আসে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আরও ভালো যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিমধ্যে চালু হওয়া আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে