নুসরাত হত্যা: বিচারিক ক্ষমতা হারালেন সাবেক বিচারক মামুনুর রশিদ

প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নির্বিচারে ফাঁসির রায় প্রদানের দায়ে তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে এই রায় দেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিচারিক আদালত যেভাবে নির্বিচারে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন, তাতে প্রতিটি পরিবারের ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ প্রদান করা হলো।

এই মামলায় হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। তারা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। এছাড়া আদালত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাস কক্ষে আসামি ও নুসরাতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হলেও নুসরাত রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল তাকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

অগ্নিসন্ত্রাসের এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ওই মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।