রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কেবল প্রজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ

প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি ও রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞাটি কেবল প্রজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এর কোনো দৃশ্যমান প্রয়োগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে বেশ কিছু রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে। গত রোববার চারজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এই কর্মসূচির আওতায় শহীদ মিনার, প্রশাসনিক ভবন, বেলতলা, জিয়া হল ও সেলিম হলসহ বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার করা হয় এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আর. এম. ফয়সাল আরাফাত, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল বিভাগের এ. কিউ. এম. কায়েস বিন মাহবুব ও ওসমান বিন মাহফুজ এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আল শাহীদ সৈকত। তারা ছাত্রদলের আদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও রুয়েট ছাত্রদলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ বা কমিটি নেই।

এর আগে ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ সিরিজের বিদায় অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ক্যাম্পাসের ১৫২ একর এলাকায় ১৫২টি চারাগাছ রোপণ করা হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিয়েও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।