আইন পেশায় সফল হতে অর্থের পেছনে নয়, দক্ষতার পেছনে ছুটুন

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

আইনজীবী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে শুরু থেকেই অর্থের মোহে না পড়ে পেশাগত দক্ষতা ও সততা অর্জনে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নবীন আইনজীবীদের এই পরামর্শ দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বা কোনো ধরনের শর্টকাটের পথ অনুসরণ না করে মেধা, নৈতিকতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন আদর্শ আইনজীবী হয়ে উঠতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতি এখন আরও স্বচ্ছ ও কঠোর করা হয়েছে, যাতে কেবল মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত হয়। যারা সনদ পেয়েছেন, তারা কোনো অনুকম্পায় নয়, বরং নিজেদের যোগ্যতা বলেই এই অবস্থানে এসেছেন।

নবীনদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। কর্মজীবনের শুরুতে কাজের পরিমাণ বা পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে পেশায় টিকে থাকতে হবে। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কাজের পরিধি ও সম্মানী দুটোই বৃদ্ধি পাবে। এ সময় তিনি পেশাগত নৈতিকতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখে আইন পেশার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।

আইনজীবীদের সামাজিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়।

নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। ভালো ড্রাফটিংসহ বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত অধ্যয়ন প্রয়োজন। তিনি জানান, বর্তমানে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তাই আইনজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন। শেষে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।