চাপে পড়ে বিদেশি উদ্ধারকারীদলকে অনুমতি নেপালের

প্রকাশিত: ১২:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

অভ্যন্তরীণ তীব্র চাপের মুখে নিজেদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার। সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার কাজে বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে কাঠমান্ডু। এর মাত্র ১২ ঘণ্টা আগেই তারা বিদেশি বাহিনীর সহায়তার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে দেশের কিছু বিশেষ দুর্গম এলাকায় বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে পারবেন।

গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। ভোতিকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে পড়ায় এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তুষার, পাথর ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে এই জলাধার তৈরি হয়েছিল। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং টনকে টন কাদা, পাথর ও জঞ্জাল ঢেকে দিয়েছে দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা।

কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নেপালে ১ হাজার ৯২৪ জন এবং চীনের তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। এই নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

এর আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ নেপালি বাহিনীকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শুক্রবার দুপুরে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সহযোগিতার প্রস্তাব খুবই স্বাভাবিক। তবে আমাদের উদ্ধারকারী বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। এই মুহূর্তে আমাদের বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।”

কিন্তু লোক বাহাদুর ছেত্রীর এই বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে নিশ্চিত করেন যে, সরকার তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এবং নেপালের কিছু বিশেষ জায়গায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।