নেপাল পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় নেপালে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দেশটিকে পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। তার মতে, এই সম্ভাব্য ব্যয় নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান। শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি বর্তমানে একটি প্রাথমিক অনুমান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের তুলনায় এবারের পুনর্গঠনে তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে। তবে কেন এবারের পুনর্গঠনে কম অর্থ লাগবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে এক হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হানে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৬০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে অনেক সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি জোগান দিত। ফলে পুনর্গঠন কাজের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা এখন দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যাতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছিল। সেই সময় দেশটির অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: অর্থনীতিনেপালপুনর্গঠনবন্যাস্বর্ণিম ওয়াগলে