গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়াবহতম অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে একে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়। তিনি বাংলাদেশের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল এবং গোপন বন্দিশালা তৈরি করেছিল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সেই সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছিল। বর্তমান সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, এসব বিল আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম বা অপহরণ কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের মৃত্যু। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি। আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ উল্লেখ করে তিনি এই অপরাধে জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: গুমতারেক-রহমানপ্রধানমন্ত্রীবিচারমানবাধিকার