শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহার করে ‘কুশ’ মাদকের বাজার তৈরির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬ প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ট্রানজিট ও প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশে ‘কুশ’ নামক শক্তিশালী মাদকের বাজার তৈরির অপতৎপরতা চালাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক চক্র। থাইল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের অপরাধীদের সমন্বয়ে গঠিত এই চক্রটি দেশে কুশের বিস্তার ঘটাতে মরিয়া। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) গত জুলাই ও আগস্ট মাসে পৃথক পাঁচটি অভিযান চালিয়ে ১৭ কেজি ৩৪০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চক্রের সঙ্গে জড়িত ভারতীয় ছয় নাগরিককে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া জানান, কুশ মাদকের বিস্তার রোধে একটি আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশ, ভারত ও থাইল্যান্ডের অপরাধীদের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। গত জুলাই মাসে বিমানবন্দর থেকে কুশ মাদকসহ জুলফিকার নামের এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বাংলাদেশে এই মাদকের বিস্তারে জড়িত বেশ কয়েকজন সহযোগীর নাম বেরিয়ে আসে। এই চক্রের দেশীয় আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ওপর নজরদারি শুরু করেছে ডিএনসি। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। এছাড়া বাকি পাঁচ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদেরও ধাপে ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের মূল হোতাহীনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, চক্রের ভারতীয় সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে এ মাদক পাচার করছে। ভারত থেকে থাইল্যান্ডে ফ্রি ভিসা এবং স্বল্প মূল্যে বিমানের টিকিট পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা ব্যাংককে যাচ্ছে। সেখানে থাইল্যান্ডের স্থানীয় চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে কুশ সংগ্রহ করার পর বিমানে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ দেশে কুশের বাজার তৈরিতে স্থানীয় একটি চক্র তাদের সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা ও আশ্রয় দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে পরিচালিত পাঁচটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ কুশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২২ আগস্ট ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসা ভারতের কর্ণাটকের বাসিন্দা হুসাইন আবদুল কাদের শেখকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশির সময় তার ট্রলি ব্যাগে কাপড়ের নিচে লুকানো ৩ কেজি কুশ পাওয়া যায়। এর আগে ১৮ আগস্ট একই ফ্লাইটে ঢাকায় এসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা আকাশ দুবে (২৮) ও আকাশ পান্ডে (৩৪) দুটি ট্রলি ফেলে পালিয়ে যান। পরে ট্রলি দুটি তল্লাশি করে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হলেও তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গত ২৪ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা সানাওয়ার আলী (৩৬) ও ইমতিয়াজ আহমেদকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় শাড়ির আড়ালে লুকানো ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ, ৩ লিটার বিদেশি মদ ও ২৪টি শাড়ি উদ্ধার করা হয়। এরপর ২৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে আসা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা আবদুল রহমান (৪৬) ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারিকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে তাদের ট্রলি থেকে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়। এর আগে জুলাই মাসে বিমানবন্দরে পৃথক আরেকটি অভিযানে প্রায় ১১ কেজি কুশসহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল ডিএনসি। কুশ মূলত উচ্চমাত্রার টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) সমৃদ্ধ এক ধরনের শক্তিশালী গাঁজা বা গাঁজাজাতীয় মাদক। সাধারণ গাঁজার তুলনায় এতে সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদানের মাত্রা অনেক বেশি থাকে, যা মানবদেহে তীব্র প্রভাব ফেলে এবং অতিরিক্ত সেবনে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ২০১৭-১৮ সালেও ঢাকায় কুশের কিছু চালান জব্দ করা হয়েছিল। সে সময় এর বিস্তার ব্যাপকভাবে না ঘটলেও বর্তমানে মাদকাসক্ত তরুণ সমাজের একটি অংশের কাছে এটি পরিচিত হয়ে উঠছে। বিমানবন্দর দিয়ে কুশের এসব চালান প্রবেশের ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশি সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির জোরালো তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: আন্তর্জাতিক মাদকচক্রকুশ মাদকমাদক পাচারমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরশাহজালাল-বিমানবন্দর