ফরিদপুরে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন, ৩ নার্সকে বদলির নির্দেশ

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬

স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের নামে এই খাতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বিশেষ করে পর্দা ও বালিশকাণ্ডের মতো ঘটনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতসব অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্যসেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং সাধারণ মানুষ হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত চিত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী নিজে কাউন্টারে গিয়ে সেবা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এরপর তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর ও ওষুধের স্টোরসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সমস্যার কথা শোনেন।

পরিদর্শনকালে রোগীরা মন্ত্রীর কাছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, নোংরা পরিবেশ এবং ওষুধের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। রোগীদের এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পর তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের তিনজন সিনিয়র সেবিকা— রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতির বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ইডিসিএলের (এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোনে কল করেন এবং দ্রুত ওষুধের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই ঝটিকা পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান, চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার এবং সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুজ্জামান (বদু) সহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।