বান্দরবানে ৩ কোটি টাকার চারা বিতরণে অনিয়ম, ফের দায়িত্বে সেই কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ৩ কোটি টাকার একটি ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ ও প্রদর্শনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও সদর উপজেলার কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলীকদম বাদে অন্য ছয়টি উপজেলায় এই প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন বান্দরবান বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় চারা বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে উৎপাদিত হয়নি এবং পর্যাপ্ত মজুতও ছিল না। ফলে বেসরকারি নার্সারি থেকে নিম্নমানের চারা চড়া দামে কিনে কৃষকদের দেওয়া হয়, যা রোপণের কিছুদিনের মধ্যেই শুকিয়ে যায়। থানচির কৃষক অংশৈ মারমা জানান, তাকে দেওয়া বাঁশের চারাগুলো ছিল সুতার মতো চিকন এবং মরা। রোয়াংছড়ির কৃষক মংসাঅং অভিযোগ করেন, ফলদ চারাগুলো রোগাক্রান্ত হওয়ায় রোপণের মাসখানেকের মধ্যেই সব মরে গেছে।

এত বড় অনিয়ম ও ব্যর্থতার পরও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তাকেই চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সাফল্যের গল্প শুনিয়ে পুনরায় কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বান্দরবান দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচমং বলেন, হর্টিকালচার সেন্টারে লোকবলের অভাব থাকলেও আগের বছর দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকেই পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা জেলা পরিষদের অসাধু কর্মকর্তাদের মদদ ছাড়া সম্ভব নয়। স্থানীয় সাংবাদিক মংহাই মারমা বলেন, নতুন দায়িত্ব দিয়ে পুরনো দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে লিটন দেবনাথ বলেন, 'কোনো সমস্যা নেই। একটু পজিটিভ নিউজ করুন। আমরা আপনার সঙ্গে আছি।' অন্যদিকে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দাবি করেন, জেলা পরিষদ দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।