বিভেদ সৃষ্টি হলে ফ্যাসিস্টরা পুনরায় উজ্জীবিত হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ বা বিরোধ তৈরি হলে তা বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পুনরায় উজ্জীবিত করার সুযোগ করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে তা যেন কোনোভাবেই শত্রুতার রূপ না নেয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সবাইকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান কেবল লংমার্চের মাধ্যমে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, লংমার্চ করে যদি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেতো, তাহলে সরকারই সবার আগে এই কর্মসূচি পালন করতো। জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যতবারই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, প্রতিবারই দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করেছে। এবারও সময়ের ব্যবধানে এই সংকট থেকে দেশকে বের করে আনা সম্ভব হবে। জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় কোনো উৎস বা বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির কারণে গ্যাস আমদানি ব্যাহত হয়। এর ওপর একটি দুর্ঘটনায় দেশের দুটি এফএসআরইউ’র (এলএনজি টার্মিনাল) একটি পুরোপুরি বিকল হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে সরকার বসে নেই এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাসহ নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার শুধু লুটপাট ও অর্থ পাচারই করেনি, খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্যও গোপন করেছিল। ২০২৪ সালে তারা খেলাপি ঋণের হার মাত্র ১১ শতাংশ দেখিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফরেনসিক অডিটে দেখা যায়, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৫.৫ শতাংশ। সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে গত ৫ মাসে তা কমে ৩২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এ ছাড়া, দেশকে ঋণের জালে জর্জরিত করে যারা পালিয়ে গেছেন, তাদের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারকেই টানতে হচ্ছে। গত ৫ মাসে সরকার রেকর্ড পরিমাণ ২ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বা অন্ধত্ব বরণ করেছেন। সুশাসন ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলসহ সবাইকে সাথে নিয়ে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দেশে বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার রোধে সবাইকে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। রাজনীতি থেকে গালাগালির সংস্কৃতি পরিহার করার তাগিদ দিয়ে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, পারিবারিক পরিবেশে যেসব শব্দ ব্যবহারে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, তা জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনপরিসরে ব্যবহার করা অনুচিত। একটি রুচিশীল সমাজ গঠনে এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ১৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছেন, ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বা অন্ধত্ব বরণ করেছেন। সুশাসন ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। তাই আসুন, সরকারি বা বিরোধী দল—সবাই মিলে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ বিএনপি ক্ষমতায় এলেই দেশকে সংকট থেকে বের করে আনে:যখনই দেশের মানুষ অবাধে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রতিবারই দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি সংকটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি হাল ধরেছে এবং সফল হয়েছে। জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এবং দুই কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও বিএনপি দেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছিল।’ SHARES অন্যান্য বিষয়: খেলাপি ঋণগ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটজাতীয় সংসদতারেক-রহমানপররাষ্ট্র ঋণফ্যাসিবাদী অপশক্তি