চাকরিচ্যুত ৮৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

পিলখানায় ২০০৯ সালের চাঞ্চল্যকর বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুত এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ৮ হাজার ৭৯৬ জন সদস্যের চাকরিতে পুনর্বহালের আর কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ওই ঘটনায় মোট ৬ হাজার ২৮৬ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ২ হাজার ৫১০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে পরিচালিত হচ্ছিল।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পিলখানা ট্র্যাজেডির দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ফলে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বহাল করার কোনো আইনি সুযোগ অবশিষ্ট নেই। এছাড়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ক্ষেত্রেও পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা ক্ষতিপূরণসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান। এই দাবিতে তারা রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেছিলেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, ২০০৯ সালের ওই ঘটনার সময় তারা গভীর ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হয়ে চাকরি হারিয়েছিলেন।

ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদরদপ্তরে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মাথায়। সেই বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘বিডিআর’ (বাংলাদেশ রাইফেলস)-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি)। একই সঙ্গে তাদের পোশাকেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।