কৃষিজমিতে ২২ শতাংশ সার সাশ্রয় করবে জবি গবেষকদের ‘এন-ফার্টিস্মার্ট’

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (13 September 2026) তারিখে ১৬:২৭ (16:27) মিনিটে জানা গেছে, কৃষিজমিতে নাইট্রোজেন সারের অপচয় রোধ ও ব্যবহার প্রায় ২২ শতাংশ কমিয়ে আনতে রিমোট সেন্সিংভিত্তিক একটি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গবেষকেরা। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কার্যকর এই প্রযুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে 'N-FertiSmart' (এন-ফার্টিস্মার্ট)। বর্তমানে চলমান 'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬'-এর ২৬ থেকে ৩৪ নম্বর স্টলে এই উদ্ভাবনটি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রযুক্তিটি তৈরি হয়েছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. আতাউল গনি ও ড. এ এম এম গোলাম আদম এবং সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। এ ছাড়া তরুণ গবেষক বিপ্লব বিশ্বাস ও মো. নাজিম শরিফ এই কার্যক্রমে অবদান রেখেছেন। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ১০ লাখ টাকার অনুদানে প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল কাজ পরিচালনা করেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান।

গবেষকেরা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে পুরো জমিতে একই মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হয়, যা অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে 'N-FertiSmart' প্রযুক্তিটি রিমোট সেন্সিংয়ের সাহায্যে জমির বিভিন্ন অংশের প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট স্থানে ও সঠিক পরিমাণে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত দিতে পারে। এই প্রযুক্তির কার্যপ্রণালিতে NDVI, B11 ও LULC-এর মতো র‌্যাস্টার ডেটা প্রি-প্রসেসিং, অ্যালাইনমেন্ট ও পুনঃশ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এরপর PDR হিসাবের মাধ্যমে জমির নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকির একটি নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করা হয়।

ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইড ২০২৪ অনুযায়ী, প্রতি হেক্টরে সাধারণত ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের সুপারিশ রয়েছে। তবে গবেষকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে 'N-FertiSmart' প্রযুক্তির মাধ্যমে জমির প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এই সারের পরিমাণ প্রায় ১৩৫ দশমিক ৯০ (১৩৫.৯০ / 135.90) কেজিতে নামিয়ে আনা সম্ভব। এর ফলে সারের ব্যবহার গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত সারের নেতিবাচক প্রভাবও কমাবে।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. এ এম এম গোলাম আদম জানান, বাংলাদেশে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের প্রায় ৬০ শতাংশই অপচয় হয়। এই অপচয় হওয়া সার গাছের কাজে তো আসেই না, উল্টো পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ, মাটি ও গাছের শিকড়ের ক্ষতি করে। নতুন এই রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এটি ব্যবহারে ২২ শতাংশ সারের অপচয় ও কৃষকের খরচ কমানো সম্ভব। সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, দুটি বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে এই প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ করে ইনোভেশন ফেয়ারে এর প্রোটোটাইপ উপস্থাপন করা হয়েছে।

'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬' এ 'N-FertiSmart: Remote Sensing Based Precision Nitrogen Management for Sustainable Agriculture in Bangladesh' শীর্ষক প্রকল্পটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলার ২৬-৩৪ নম্বর স্টলে প্রযুক্তিটি উপস্থাপন করা হয়েছে।