নতুন রূপে যাত্রা শুরু করল ডাকসু সংগ্রহশালা

প্রকাশিত: ৯:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কর্মকাণ্ড, ইতিহাস ও গৌরবের স্মৃতি ধরে রাখতে সংগ্রহশালাটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম সংগ্রহশালাটির নতুন রূপের উদ্বোধন করেন। সংস্কার কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশারফ হোসেন, জিএস এস. এম. ফরহাদ, রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক, সাবেক ভিপি বদরুল আলমের কন্যা ফারজানা আলম ও তার পরিবারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাতিমা তাসনিম জুমা জানান, ডাকসুর জরাজীর্ণ সংগ্রহশালাটিকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা থেকে এই সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাস ডাকসুর ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আগামী এক সপ্তাহ ধরে এখানে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিলসমূহ সংযোজন করা হবে। তিনি সাবেক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, পোস্টার ও স্মারক সংগ্রহশালায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে এটি একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হয়।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, ৯০-এর দশকের পর দীর্ঘ অবহেলায় অকার্যকর থাকা এই সংগ্রহশালায় ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ফ্যাসিবাদ আমলের গণহত্যা এবং জুলাই বিপ্লবের দুর্লভ চিত্র ও দলিল সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া ১৯২১ সাল থেকে শুরু হওয়া ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি-জিএসদের নামসহ অনার বোর্ড যুক্ত করা হয়েছে।

ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ অবহেলা ও প্রায় ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়া ডাকসু সংগ্রহশালাটিকে ডাকসুর উদ্যোগে ফাতেমা তাসনিম জুমার তত্ত্বাবধানে সংস্কার করে আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটিতে প্রাচীন ইতিহাস ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২৪-এর জুলাই বিপ্লব এবং ২০০৯ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ ক্রোনোলজিক্যাল আকারে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কিছু ভিপির ছবিসহ এখনও কিছু ঘাটতি থাকায় আগামী এক সপ্তাহকে কারেকশনের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কারো কাছে কোনো তথ্য, ছবি বা কারেকশনের পরামর্শ থাকলে তা জানানোর জন্য আহ্বান করছি।

সাবেক ভিপি বদরুল আলমের কন্যা ফারজানা আলম বলেন, সংগ্রহশালাটিকে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ১৯৫৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত