হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধের হুমকি ট্রাম্পের প্রকাশিত: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সংবাদ মাধ্যম সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন এবং নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তিনি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে আরও গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা লিখেছেন। পরে ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই সংবাদমাধ্যমগুলো ক্রমাগত ভুয়া খবর প্রচার করে, যা দেখে তিনি ক্লান্ত। তিনি দাবি করেন, সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোর প্রতিবেদনগুলো ভুয়া এবং এ কারণেই তাদের দর্শকসংখ্যা ভালো নয়। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জন্য সৎ সাংবাদিকতা প্রয়োজন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণেই উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের সরিয়ে দেয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিএনএন। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের হুমকি কার্যকর করা হলে তা সাংবিধানিক অধিকারের ওপর অবৈধ আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। পলিটিকো জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসের সংবাদ ন্যায্যভাবে পরিবেশন চালিয়ে যাবে এবং প্রথম সংশোধনী অধিকার খর্ব করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াই করবে। এমএস নাউ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ এটিকে ‘ভিউপয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা মতাদর্শের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন এবং পেন আমেরিকার টিম রিচার্ডসন ট্রাম্পের এই আচরণকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই প্রশাসন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত বছর মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন নিয়ে এপি’র সাংবাদিকদের ওভাল অফিসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দিয়েছিলেন তিনি, যার ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও বিবিসির বিরুদ্ধেও তিনি বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সিএনএন’র মতো বড় নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রেসিডেন্টের সফর কাভার করার প্রচলিত ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে পারে। SHARES অন্যান্য বিষয়: গণমাধ্যমডনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রসিএনএনহোয়াইট হাউস