বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়া দুই চিতাবাঘ ফেরত নিতে রাজি নয় জিম্বাবুয়ে প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসা দুটি চিতাবাঘ ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জিম্বাবুয়ে সরকার। ২০১৮ সালের ১৫ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থেকে খাঁচাবন্দী অবস্থায় এই দুটি চিতাশাবক উদ্ধার করেছিল বন বিভাগ। এরপর থেকে শাবক দুটি গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে। সাফারি পার্কের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রাণী দুটিকে থাকতে হচ্ছে। বন বিভাগের প্রধান সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়ার পর পাচারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাণীগুলো জিম্বাবুয়ে থেকে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। এরপর বন্য প্রাণী পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা জিম্বাবুয়ের একটি সংস্থা ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’ চিতাবাঘ দুটিকে পুনর্বাসনের আগ্রহ প্রকাশ করে। এই আগ্রহের প্রেক্ষিতে বন বিভাগ জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অথরিটিকে চিঠি দেয়। প্রথম চিঠিটি পাঠানো হয় ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল। ২২ এপ্রিল জিম্বাবুয়ে কর্তৃপক্ষ মেইলটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর ১৭ জুন বিষয়টি অগ্রগতি জানতে চেয়ে পুনরায় ইমেইল করা হয়। ১৯ জুন বন অধিদপ্তরের কাছে চিতাবাঘ দুটির ভেটেরিনারি সনদ চাওয়া হয়, যা ১৬ জুলাই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ১২ আগস্ট পুনরায় যোগাযোগ করা হলে ১৪ আগস্ট জিম্বাবুয়ের কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয় যে তারা চিতাবাঘ দুটি ফেরত নেবে না। জিম্বাবুয়ের সংস্থা ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’ জানিয়েছে, তারা দেড় বছর ধরে জিম্বাবুয়ে সরকারের বন্য প্রাণী ও পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রাণী দুটির জন্য খাঁচা তৈরির তহবিলও সংগ্রহ করেছে। সংস্থাটি এখনো আশা ছাড়ছে না। জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। গাজীপুর সাফারি পার্কের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, পার্কের নকশার সীমাবদ্ধতা এবং অর্থসংকটের কারণে চিতা দুটির জন্য বড় খাঁচা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি অর্থবছরে খাঁচা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। SHARES জাতীয় বিষয়: চিতাবাঘজিম্বাবুয়েবন অধিদপ্তরবন্যপ্রাণী পাচারসাফারি পার্ক