পাথরঘাটায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভিডিও দেখে মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬

চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকার সতীশ বাবু লেইনে অটোরিকশার এক যাত্রীকে ছুরির মুখে জিম্মি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী থানাধীন উত্তর শিকলবাহা এলাকা থেকে মো. সাদ্দাম হোসেনকে (৪৩) আটক করে। ডিবি (উত্তর-দক্ষিণ) বিভাগের টিম-৩১-এর একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। নগরের কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটার সতীশ বাবু লেইনে অটোরিকশার এক যাত্রীকে ছোরার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওর মূলহোতা ও ৯ মামলার আসামি মো. সাদ্দাম হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপল।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পাথরঘাটার মুজিবুর রহমানের ৬ষ্ঠ তলা ভবনের সামনে অটোরিকশার এক যাত্রীর পথরোধ করে একদল ছিনতাইকারী। তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ অর্থ লুটে নেয়। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপরই ছিনতাইকারীরা তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দেয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করার কারণে তাদের শনাক্ত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে ভাইরাল ভিডিওতে সাদা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পর ডিবি টিম-৩১ নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর শিকলবাহা থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার স্থায়ী বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়, তবে বর্তমানে তিনি কর্ণফুলীর উত্তর শিকলবাহা এলাকাতেই বসবাস করছিলেন।

সাদ্দাম একজন পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ২০২৫ সালে নগরীর টেরিবাজার এলাকায় একইভাবে এক নারীকে ছুরিকাঘাত করে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অপরাধেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সাদ্দাম কোনো সুনির্দিষ্ট পেশায় জড়িত নন। তিনি মাইন উদ্দিন ওরফে বান্ডু নামে তার এক সহযোগীর সঙ্গে মিলে ছিনতাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, দস্যুতা এবং দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা ৯টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।