বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: মিল্লাত

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে তিনি এই কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক ও নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সক্ষমতা।

তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকার প্রধান গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের পর দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ‘ন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা (আইকাও) অডিট সামনে রেখে সব ধরনের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভিআইপি এবং সিআইপি নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান রাখা হয়েছে এবং সবাইকে তা অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের মতো কেপিআইভুক্ত এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়ন বন্ধে এন্ট্রি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে স্ক্যানারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম কমিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস, এয়ারপোর্ট অপারেশনস, সিকিউরিটি ও মেডিকেল টিমের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। পরিশেষে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সম্মানিত যাত্রী। তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য, যাতে তারা আন্তর্জাতিক মানের সেবা পেয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।