জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির পথে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির পথে নেমেছেন বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে কমিশন ভবন থেকে ২০০ মিটার দূরে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি আটকে যায়।

নির্বাচন সদন পর্যন্ত পৌঁছতে না পেরে রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য সাংসদরা নীতি আয়োগের সামনে ধরনায় বসে পড়েন। এ সময় বেশ কয়েকজনকে ব্যারিকেডের উপরে বসে থাকতে দেখা যায়। প্রতিবাদরত সাংসদরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন— ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’। এক পর্যায়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা পাশের আকাশবাণী ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টাও করেন। মিছিলে তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের পি চিদম্বরম, এনসিপি (শরদ)-এর সুপ্রিয়া সুলে এবং আরজেডির মনোজ ঝাসহ ইন্ডিয়া জোটের ১৯টি দলের মোট ২৩৭ জন সাংসদ অংশ নিয়েছেন। তবে ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়নি।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই প্রতিবাদের বিষয়ে বলেন, “আমাদের লড়াই অবিচারের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর আমরা যে সর্বজনীন ভোটাধিকার পেয়েছিলাম, সরকার তা খর্ব করার চেষ্টা করছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সরকারের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছেন। মোদি ও শাহ যা বলেন, তিনিও তা-ই করেন। এমনটা চলতে থাকলে একনায়কতন্ত্রের সূচনা হবে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।”

বিরোধীদের নির্বাচন সদন অভিযান ঠেকাতে সকাল থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংসদ ভবন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং নির্বাচন সদনের আশপাশে তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের গেটেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, “নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অতীতেও অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এ বার তো পশ্চিমবঙ্গে ওরা পুরো নির্লজ্জের মতো আচরণ করেছে।”

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক প্রতিবাদ মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে পড়েছে। মূলত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২ অক্টোবর থেকে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি ইমরান মাসুদ ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদ থেকে ডিএমকে ও আপের দূরে থাকার সমালোচনা করে বলেছেন, গণতন্ত্রের এই লড়াইয়ে কোনো মধ্যপন্থা নেই। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সমর্থন করছে।