সাবেক উপাচার্যকে ফেরাতে চুয়েট শিক্ষার্থীদের নগরে মানববন্ধন প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় নিয়োগের দাবিতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ১৫তম দিনে এসে তারা ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে নগরের প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এই মানববন্ধন। চুয়েট ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে পাঁচটি বাসে শতাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে যোগ দেন, পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সংহতি প্রকাশ করেন। প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’-এর মতো দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’ ও ‘সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ স্লোগানে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালালেও সংকটের কোনো সুরাহা মেলেনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের অভূতপূর্ব ঐক্যের এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। সরকার দ্রুত ড. সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহাল করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে বলে তারা আশাবাদী। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সায়েম স্যারকেই উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নজির যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা সবাই একজনকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চুয়েটের চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও গবেষণা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ এই বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি, বরং একটি ব্যাখ্যাতীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে। বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক বলেন, দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় বাধ্য হয়ে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে রাজপথে এসেছেন। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, বরং একটি ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ন্যায্য পুনর্বিবেচনা চাচ্ছে—তাই কোনো বিশেষ সুবিধা না চেয়ে চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষাপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকালের পরিকল্পিত। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে দায়িত্বরত অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে সেই দিন থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আন্দোলনের ১৫ দিনে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও মুখোশ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না আসায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ও উপাচার্য নিয়োগের এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার অবসান চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: আন্দোলনচট্টগ্রামচুয়েটমানববন্ধনশিক্ষা