শিক্ষকের নির্দেশে সহপাঠীদের হাতে দুই শিক্ষার্থীর গণহারে চড়-থাপ্পড়

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে তাদের সহপাঠীদের দিয়ে ‘গণহারে চড়-থাপ্পড়’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাঈমুল হক নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেহেরাজ জিসান নামের এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং মিফতাহুল জান্নাত নামের অন্য এক শিক্ষার্থী ভিন্ন শ্রেণির এক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেন। এই দুই ঘটনার জেরে গত বুধবার শিক্ষক নাঈমুল হক শ্রেণি কক্ষে ওই দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি হিসেবে তাদের ৭২ সহপাঠীর মাধ্যমে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শিক্ষক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই মারধর নিশ্চিত করেন। কেউ চড় দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া, লজ্জা ও অস্বস্তিতে কোনো সহপাঠী আস্তে চড় দিলে তাকে জোরে চড় দিতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে বেয়াদবি বা অপরাধ করলে শিক্ষক নিজেই বিচার করবেন। সহপাঠী দিয়ে চড়-থাপ্পড়ে শায়েস্তা করতে পারেন? এতে আমার মেয়ে চরম অপমান বোধ করেছে। ভাগ্যিস মেয়েটি কষ্ট পেলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে হজম করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার রেহানা মোস্তফা জানান, শিক্ষকের নির্দেশে ৭২ সহপাঠীর মাধ্যমে দুই শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে এই কমিটি গঠন করেছেন ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া।

ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।

নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত