চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬ চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি স্থাপন ও মহাকাশ গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে এক নতুন প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের তিন পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) বসানোর এই তীব্র প্রতিযোগিতার খবরটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদে দীর্ঘ সময় ধরে সৌরশক্তি ব্যবহার করে গবেষণা চালানো অত্যন্ত কঠিন। এর মূল কারণ হলো চাঁদে একনাগাড়ে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাত বা অন্ধকার থাকে। এই দীর্ঘ অন্ধকার ও চরম শীতের সময় চন্দ্রঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উষ্ণতা বজায় রাখতে পরমাণু শক্তির কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন 'লুনার রিঅ্যাক্টর-১' চুল্লিটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে স্থাপন করা হবে। এটি কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সচল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে 'সেলেনা' নামক একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এই তোড়জোড় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমত, রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বা মহাকাশে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বেশ কঠিন। পাশাপাশি এই উদ্যোগকে ঘিরে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ১৯৬৭ সালের 'আউটার স্পেস ট্রিটি' অনুযায়ী চাঁদের কোনো অংশের ওপর কোনো দেশ একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। কিন্তু পারমাণবিক সুরক্ষার অজুহাত দেখিয়ে কোনো দেশ যদি তাদের চুল্লির চারপাশে 'নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা' ঘোষণা করে, তবে তা অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প আরও দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে, যা মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও এক ধরনের বিভাজন তৈরি করছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: চাঁদ মিশনচীননাসাপারমাণবিক চুল্লিমহাকাশ গবেষণাযুক্তরাষ্ট্ররাশিয়া