কর্ণফুলীতে গৃহবধূ নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার সূত্র ধরে পিবিআই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌসের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। নিহত জান্নাতুল নগরীর একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন এবং সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানসহ চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকায় ভাড়া থাকতেন। এ নিয়ে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে বিরোধ চলছিল রাজুর। তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই জানায়, নিহত জান্নাতুল গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়া ওরফে রাজুকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। বিয়ের সময় রাজা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিলেও পরে জান্নাতুল তার প্রথম বিয়ের খবর জানতে পারেন। এ নিয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে জান্নাতুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন রাজা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে জান্নাতুল ফেরদৌস হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজুসহ তিনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাতুলকে শনাক্ত করেন। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যান রাজা। এরপর নৌকাযোগে শিকলবাহা খালে নিয়ে যাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে জান্নাতুলের মুঠোফোনটি খালে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ বস্তাবন্দি করে কালারপোল এলাকার এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে ফেলে দেওয়া হয়। কর্ণফুলী নদী পেরিয়ে নৌকাটি শিকলবাহা ছোট খালে ঢুকে। এরপর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয় খালে। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাংগীর হোসেন জানান, গত ৬ অক্টোবর মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় টেকনাফ থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুসলিম উদ্দিন রাজার প্রথম স্ত্রীর ভাই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুজুর আহম্মদকে আটক করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পানটি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুজুর আহম্মদ (২৪)। এই ঘটনায় নিহত জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। অভিযুক্তদের মধ্যে মুসলিম উদ্দিন গত ১৪ অক্টোবর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি ও জান্নাতুলের স্বামী রাজা মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। SHARES অপরাধ বিষয়: কর্ণফুলীখুনচট্টগ্রামপিবিআইপুলিশ