গেন্ডারিয়ায় মাদকের আস্তানায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের আকস্মিক অভিযান, আটক ৬

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনের অন্তর্গত গেন্ডারিয়া থানা এলাকার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন একটি বস্তিতে আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পরিচালিত এই অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযানের কয়েকটি ভিডিও প্রতিমন্ত্রী তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। একটি ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর হাতে একটি পিস্তল দেখা গেছে, যদিও সেটির কিছু অংশ ঝাপসা বা ব্লার করে দেওয়া হয়েছিল। ভিডিও দেখে অস্ত্রটির ধরন নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং সেটি ব্যবহারের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না কিংবা কেন হাতে রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হ্যান্ডকাফ পরানো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সদস্যরা রওনা হচ্ছেন।

গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজে ছয়জনকে আটক করার পর থানায় খবর দেন। এরপর থানা থেকে পুলিশের টিম গিয়ে আটক ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে।

অভিযান চলাকালে ইশরাক হোসেন স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটানো হয়েছে, তাই এলাকায় কোনো মাদক কারবারির স্থান হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এমনকি তাঁর নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ যদি মাদক কারবারে জড়িত থাকে, তবে তাঁর শাস্তির মাত্রা আরও কঠোর হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আটক ব্যক্তিরা এ সময় রেহাই পাওয়ার জন্য আকুতি জানালে এবং হাতজোড় করলে প্রতিমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “তোমাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না, তোমাদের কেউ কিছু করবে না। তোমরা থানায় যাবা, পুলিশ তোমাদের ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের মারার জন্য আমরা আসি নাই। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে। তাঁদের বিচার হবে, বিচারের মাধ্যমে তাঁদের শাস্তি হবে।”

ইশরাক হোসেনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, পুরো ঢাকা-৬ আসনকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা-৬ এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই মাদকবিরোধী আন্দোলন ও অভিযান পর্যায়ক্রমে সমগ্র বাংলাদেশে পরিচালিত হবে এবং দেশে কোথাও মাদকের ঠাঁই দেওয়া হবে না। তিনি এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন।