ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল। বিশেষ করে ঢাকা শহরের বিপুল জনসংখ্যার চাপ সামলে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা চ্যালেঞ্জিং হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা যখন মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করো, তখন তা দ্রুত দৃশ্যমান হয়। তবে এই কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিবার ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হলে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের জোগান দেওয়া কঠিন। তাই মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের প্রথম কাজ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা ও বাড়িঘর পরিষ্কার রাখাই এর প্রধান উপায়। সরকারের উদ্যোগে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি রাস্তা, খাল বা জলাশয়ে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান। বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে, কারণ তোমরা সবার স্বার্থে কাজ করছো।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। তিনি নিজের অতীত উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, ২০০৪-০৫ সালের দিকে একটি সংগঠনের মাধ্যমে ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছ রোপণ করা হয়েছিল। এখন শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গাছ লাগানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। এছাড়া তিনি সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে রোপণ করা ‘জিয়া ট্রি’ বা নিমগাছের ইতিহাসও তুলে ধরেন।

পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাস অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নদী-নালা ও জলাশয় দূষণ রোধে প্লাস্টিক বা পলিথিন যত্রতত্র ফেলা বন্ধ করতে হবে। পরিশেষে তিনি বলেন, তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। ভবিষ্যৎ তোমরাই পরিচালনা করবে। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন।