সাজেকের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পর্যটন বন্ধ, ব্যবসায়ীদের ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬ প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এখনো থমথমে। গত বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও। ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে, যা পাহাড়ের জনজীবন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাজেকের গঙ্গারাম এলাকায় এখন জনশূন্যতা বিরাজ করছে। স্থানীয় কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা জানান, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল, যেখানে বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়েছে। যদিও এদিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পর্যটন বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ভরা মৌসুমে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের আয় বন্ধ হয়ে গেছে এবং বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতের সাথে জড়িত সাধারণ মানুষও চরম সংকটে পড়েছেন। এদিকে, দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। সেনাবাহিনী এবং ইউপিডিএফের পালটাপালটি অভিযোগের মধ্যে এই সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে SHARES অন্যান্য বিষয়: অবরোধপর্যটনবাঘাইছড়িরাঙামাটিসাজেক