দুর্গাপূজায় প্রশংসা পেলেও তারেক রহমানের সামনে তিন বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

বাংলাদেশে দুর্গাপূজার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রশংসা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এই সাফল্য ধরে রাখা তার জন্য সহজ হবে না। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর চাপ—সব মিলিয়ে সামনে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর তারেক রহমানের অধীনে এটিই ছিল প্রথম দুর্গাপূজা। উৎসবের আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারি সহযোগিতার কারণে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রশংসা পেয়েছেন। এমনকি তার রাজনৈতিক বিরোধীদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ উৎসবের আয়োজনের প্রশংসা করেছেন।

এ বছর বাংলাদেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ছিল ২৫৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দেড় হাজার মণ্ডপ বেড়েছে। উৎসব ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ সদস্যকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি মণ্ডপে আটজন এবং অন্য মণ্ডপগুলোতে ছয়জন করে সদস্য মোতায়েন করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত ছিল। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৮টি বেইস ক্যাম্প স্থাপন করে এবং টহল জোরদার করে।

সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে। এর পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা কার্যত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পান। উৎসবের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইনফ্লুয়েন্সার ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান লিখেছেন, বাংলাদেশে দুর্গাপূজা এত জাঁকজমক ও প্রাণবন্তভাবে উদ্যাপিত হতে তিনি আগে কখনো দেখেননি। লেখক সাদিকুর রহমান খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং লেখক ফাহাম আবদুস সালাম এবারের আয়োজনের প্রশংসা করেছেন। কলকাতার সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ লিখেছেন, ‘এ বছর বাংলাদেশে দুর্গাপূজা ছিল অসাধারণ। বাংলাদেশকে অভিনন্দন। চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপের জাঁকজমক দেখে আমি বিস্মিত।’

তবে দুর্গাপূজার আয়োজন তারেক রহমান সরকারের জন্য প্রশংসা বয়ে আনলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। উৎসব শুরুর আগে চলতি মাসে দেশজুড়ে পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতার অন্তত ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি।

হিন্দু অধিকারকর্মী জয়ন্ত কর্মকার দ্য প্রিন্ট-কে বলেছেন, গ্রামপর্যায়ে কিছু ইসলামপন্থী ধর্মীয় বক্তারা প্রতিমা পূজার বিরোধিতা করেছেন এবং একে ‘হারাম’ আখ্যা দিয়ে মুসলমানদের দুর্গাপূজার আয়োজনে অংশ না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জয়ন্ত কর্মকার বলেন, ‘তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজা মাঠপর্যায়ে হিন্দুদের বাস্তব পরিস্থিতি বদলে দেয় না। হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ইসলামপন্থী বক্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’