জন্মদিনে জেনে নিন ৪০০ কোটি টাকার মালিক মহেশ বাবুর কথা

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬

পর্দায় নায়কোচিত উপস্থিতি আর অ্যাকশন দিয়ে যিনি দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছেন, তিনি দক্ষিণি তারকা মহেশ বাবু। আজ ৯ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেতার জন্মদিন। তাঁর রক্তেই ছিল অভিনয়, কারণ বাবা ঘট্টামানেনি কৃষ্ণা ছিলেন তেলেগু ছবির পরিচিত মুখ, যিনি ৩৫০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। মহেশ বাবুর বড় ভাই রমেশ বাবু ছিলেন অভিনেতা ও পরবর্তী সময়ে প্রযোজক। শুধু পরিবার নয়, তাঁর শৈশবের বন্ধুদের তালিকায় রয়েছেন তামিল সিনেমার পোস্টারবয় খ্যাত অভিনেতা বিজয় এবং কার্তিক শিবকুমারের মতো তারকারাও। মাত্র চার বছর বয়সে বাবার প্রযোজিত ‘নিদ’ (১৯৭৯) ছবির মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু হয়। এরপর তিনি আরও আটটি ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। তখন থেকেই তাঁর সংলাপ মুখস্থ করার অসাধারণ দক্ষতা ছিল।

৬০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করা মহেশ বাবু দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণী সিনেমায় রাজত্ব করছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘মুরারি’, ‘অথাডু’, ‘পোকিরি’, ‘বিজু’, ‘ডোকাডু’, ‘সীতামা ভাকিতলো সিরিমাল্লে চেট্টু’, ‘ব্রহ্মোৎসবম’, ‘ভারসুডু’, ‘মহর্ষি’ ও ‘সারিলেরু নিকেভভারু’। ২০০৬ সালের ‘পোকিরি’ ছবিটি সালমান খানের ‘ওয়ান্টেড’ নামে হিন্দিতে রিমেক হলেও, মহেশ বাবু নিজে আজ পর্যন্ত কোনো রিমেক ছবিতে অভিনয় করেননি, যা একটি ব্যতিক্রমী রেকর্ড। তিনি ৯টি নন্দী অ্যাওয়ার্ডসহ পাঁচটি ফিল্মফেয়ার সাউথ অ্যাওয়ার্ড, তিনটি সাউথ ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল মুভি অ্যাওয়ার্ড ও একটি আইফা পুরস্কারসহ অনেক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।

ভক্তদের কাছে ‘প্রিন্স’ বা ‘তেলেগু ছবির রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিত মহেশ বাবু মানেই এক স্টাইল স্টেটমেন্ট। ২০১০ সালে টাইমস অব ইন্ডিয়ার ‘৫০ মোস্ট ডিজায়ারেবল মেন অব ইন্ডিয়া’ তালিকায় মহেশ বাবুর অবস্থান ছিল ১২ নম্বরে। এক বছর পরের তালিকায় তিনি হৃতিক রোশন, সালমান খান ও শাহরুখ খানদের পেছনে ফেলেছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম তেলেগু অভিনেতা হিসেবে মাদাম তুসো মিউজিয়ামে নিজের মোমের মূর্তি স্থান করে নেন। চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হলো, মাতৃভাষা তেলেগু হলেও মহেশ বাবু তা পড়তে বা লিখতে পারেন না। ছোটবেলা থেকে চেন্নাইয়ে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ার কারণে তিনি তামিল ও ইংরেজিতে দক্ষ। তবে শুনে সংলাপ মুখস্থ করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে তিনি পর্দায় সাবলীলভাবে অভিনয় করেন। তাঁর ১৮টির বেশি ছবি হিন্দিতে ডাব হয়েছে, যা হিন্দি চ্যানেলে টিআরপির শীর্ষে থাকে।

ব্যক্তিগত জীবনে মহেশ বাবু অত্যন্ত বিনয়ী ও দায়িত্বশীল। তিনি স্ত্রী নম্রতা শিরোদকারকে নিয়ে ‘হিল স্পিরিট ফাউন্ডেশন’ পরিচালনা করেন এবং শিশুস্বাস্থ্য, ক্যানসার চিকিৎসা, গ্রামীণ শিক্ষা ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন। এছাড়া তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশের স্কুল ও হাসপাতালে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে তিনি ‘জি মহেশ বাবু এন্টারটেইনমেন্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালে এশিয়ান সিনেমাসের সঙ্গে অংশীদারত্বে তিনি হায়দ্রাবাদে এএমবি সিনেমাস নামে প্রিমিয়াম মাল্টিপ্লেক্স চালু করেন এবং ভবিষ্যতে ‘এএমবি ক্লাসিক’ নামে নতুন মাল্টিপ্লেক্সের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকার বেশি।

সম্প্রতি তেলেঙ্গানার একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাঁর নাম জালিয়াতির অভিযোগে জড়িয়েছিল, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। ইডির পক্ষ থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে তিনি এস এস রাজামৌলির পরিচালনায় ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি ‘বারানসি’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এই ছবিতে তিনি রুদ্র চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। ছবিটি ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। রাজামৌলি জানিয়েছেন, ছবিটি অ্যান্টার্কটিকা, আফ্রিকা ও প্রাচীন রোমের প্রেক্ষাপটে তৈরি এক মহাকাব্যিক অভিযান, যেখানে রুদ্রকে এক গ্রহাণু-হুমকির মুখোমুখি হতে দেখা যাবে।