ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা ও মুসলিমদের করণীয় প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬ সুরা কুরাইশের শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ক্ষুধার পর অন্ন এবং ভয়ের পর নিরাপত্তা হলো সম্মানজনক জীবনের প্রধান দুটি স্তম্ভ। আল্লাহতায়ালা কুরাইশকে যেভাবে রিজিক ও নিরাপত্তা দান করেছিলেন, তা তাঁর অসীম অনুগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ। এই নেয়ামতগুলো মানুষের শক্তি বা পরিকল্পনার ফল নয়, বরং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম। প্রকৃত কৃতজ্ঞতা কেবল মুখে নয়, বরং হৃদয়ের স্বীকৃতি এবং সৎকর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। নিরাপত্তা এমন এক নেয়ামত যার কাছে তা থাকে, সে এর মূল্য ততক্ষণ বোঝে না, যতক্ষণ না দেখে অন্য কারও কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজকের বিশ্বে ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। তারা এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন যেখানে খাদ্যের তীব্র সংকট এবং নিরাপত্তার অনুপস্থিতি বিদ্যমান। এই তিন নেয়ামত একসঙ্গে মিললে মানুষ অভিযোগহীন হয়ে যায়—এক. হৃদয়কে শান্ত রাখার মতো নিরাপত্তা, দুই. জীবনযাপনে সহায়তা করার মতো সুস্থতা, তিন. প্রয়োজন মেটানোর মতো খাদ্য। তাদের এই চরম দুর্দশা ও বঞ্চনার সময়ে আমাদের বিবেক ও বিশ্বাস পরীক্ষা হচ্ছে। যারা এই সংকটের দিনে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারি অনুমোদিত মাধ্যমের সহায়তায় খাবার, ওষুধ ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন, তারাই প্রকৃত দানের অর্থ বুঝতে পারছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন আরব দেশের নেতৃত্ব যে কার্যকর ভূমিকা ও সমর্থন প্রদর্শন করছে, তা প্রশংসনীয়। এটাই সেই মুহূর্ত যখন সততা পরীক্ষা হয়, নিয়ত যাচাই হয়। এই বরকতময় আরব দেশের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের প্রভাবশালী উপস্থিতি ও সমর্থনের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কার্যকর ভূমিকা ও সম্মানজনক অবস্থান নিয়েছে, যা ২৩৪৬ দিন ধরে চলমান সংকটে ৩-৪টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলে আল-মসজিদুল হারামের সাথে আল-মসজিদুল আকসার যে বরকতময় সংযোগের কথা বলা হয়েছে, তা আমাদের এই ভূখণ্ডের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রত্যেক মুসলিমের সামর্থ্য অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। কেউ তার সামর্থ্য দিয়ে, কেউ তার সরব উপস্থিতির মাধ্যমে, আবার কেউ তার হৃদয়ের গভীর থেকে দোয়ার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। সুরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রার্থনা করলে আল্লাহ সাড়া দেন। তাই গভীর রাতে আমাদের আন্তরিক দোয়া হতে পারে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি। হে আল্লাহ, তুমি তাদের ক্ষুধা দূর করো, ভয় থেকে নিরাপদ করো এবং তাদের ভাঙা মন জোড়া লাগিয়ে দাও। SHARES ইসলাম বিষয়: ইসলামদোয়াফিলিস্তিনমানবিকতামুসলিম