ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনার ঘাটতি রাশিয়ার: পশ্চিমা রিপোর্ট প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬ ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সৈন্য ঘাটতি দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩১ হাজার নতুন সেনা নিয়োগ করলেও একই সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহত হচ্ছে প্রায় ৩৬ হাজার রুশ সেনা। ফলে প্রতি মাসে রাশিয়ার প্রায় ৬ হাজার সেনার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, যা ক্রেমলিনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পশ্চিমা এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, দৈনিক গড়ে এক হাজার নতুন সেনা রুশ বাহিনীতে যুক্ত হলেও ফ্রন্টলাইনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে অনেক বেশি। দীর্ঘস্থায়ী এই জনবল সংকট রুশ সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপের মুখে ফেলেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের এই ক্ষতি আড়াল করতে এবং ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভেঙে দিতে রাশিয়া এখন বেসামরিক অবকাঠামো ও জনবসতি লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে মস্কো। জুলাই মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ৩৬০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগাতে চাইছে ক্রেমলিন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ সেনা ঘাটতি মেটাতে পুতিন প্রশাসনকে আবারও বড় পরিসরে সেনা সমাবেশের ডাক দিতে হতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত রাশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে ২০২২ সালের শরতে যখন বড় ধরনের সেনা সমাবেশ করা হয়েছিল, তখন প্রায় ১০ লাখ রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, যাদের বড় অংশই ছিল উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাদার। পরবর্তীতে তাদের কিছু অংশ ফিরে এলেও তা দেশত্যাগীদের অর্ধেকেরও কম। এদিকে ইউক্রেনও বসে নেই; তারা রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ বাড়াতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জোরালো তাগিদ দিচ্ছে কিয়েভ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে কিয়েভে যান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে তিনি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পশ্চিমা দেশগুলোর এমন সহযোগিতার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া বারবার পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। ক্রেমলিন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কিয়েভের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন হলো, রাশিয়ার এই হুমকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না ঠিকই, কিন্তু পুতিন কখনোই ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি কোনো সামরিক যুদ্ধে জড়াতে চান না। উল্লেখ্য, ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, মিনস্ক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া, যা এখনও চলমান রয়েছে। ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫। নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইউক্রেন যুদ্ধদ্য গার্ডিয়ানপশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যভ্লাদিমির পুতিনরাশিয়াসেনা সংকট