নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসে ৬৩৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৬

নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ১০১ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৭ জন পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় বর্তমানে ১৫ হাজার ২২৪ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে কাজ করছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বন্যার আবর্জনা ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক পরিষ্কার করে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে।

গত বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যা দেখা দেয়। বন্যার প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহু দূরে ভাটির বিভিন্ন জেলায় ভেসে গেছে। কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর চেষ্টা করছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, যেসব বিশেষায়িত ও কারিগরি ক্ষেত্রে নেপালের পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই, সেসব বিষয়ে বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন। তবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এরই মধ্যে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, টানেলে আটকা পড়াদের উদ্ধার, ধ্বংস হওয়া সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং ডিএনএ পরীক্ষার মতো কারিগরি সহায়তার জন্য তারা আবেদন করেছেন। এছাড়া বন্যায় প্রায় দুই ডজন সেতু ধ্বংস হওয়ায় দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করতে ভারত ও চীনের কাছে বেইলি সেতু চাওয়া হয়েছে।