নেপালে বন্যার ৯ দিন পর টানেল থেকে ২ জন জীবিত উদ্ধার

প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার দীর্ঘ নয় দিন পর দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের সফলভাবে বের করে নিয়ে আসেন উদ্ধারকারীরা। এই উদ্ধার অভিযানের মধ্য দিয়ে টানেলের ভেতরে আটকে থাকা আরও অনেকেরই জীবিত থাকার জোরালো আশা তৈরি হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহার্জন। শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয়কে এবং পরবর্তীতে কবির মহার্জনকে উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে। গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যার পর থেকেই তিনি এই উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।

আইনপ্রণেতা নেউপানে জানান, টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার পর উদ্ধার অভিযানে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরা ভেতরে আটকে পড়াদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সমর্থ হন। কণ্ঠস্বর শোনার পরপরই নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী টানেলের ভেতরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জোরদার করে।

উদ্ধার অভিযানের নাটকীয় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে নেউপানে বলেন, ‘উদ্ধারকারী দল ভেতরে থাকা লোকজনকে ডাক দিয়ে বলেছিল, ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ এর জবাবে টানেলের ভেতর থেকে উত্তর আসে, ‘ঠিক আছে’।’ পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে টানেলের ভেতরে এখনও একাধিক ব্যক্তি আটকে আছেন এবং তাদের উদ্ধারে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ২৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর থেকেই অত্যন্ত দুর্গম ও প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে টানেলসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আটকে পড়াদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ০৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:২৮ মিনিটে এই উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।