র‍্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা, উদ্ধার করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে র‍্যাব পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে তিনি যে মেসে থাকেন, সেখানে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, সকালে ওই শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে মেসে র‍্যাব পরিচয়ে লোকজনের উপস্থিতির কথা জানান। ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পৌঁছালে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা দাবি করেন যে তারা ভুল করে সেখানে এসেছেন। পরে তারা জানান, চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন এবং এর মধ্যেই ওই শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। অধ্যাপক তারেক বিন আতিক তাদের জানান, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি। বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকেও জানানো হয়।

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি শোনার পরপরই সূত্রাপুর থানার ওসিকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শুরুতে র‍্যাবের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকলেও পরে সেখানে র‍্যাবের সদস্যরা উপস্থিত হন। সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির জানান, শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তোলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় হতে হবে, তবে এ মুহূর্তে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে যারা এসেছিল, তারা র‍্যাবের সদস্য ছিল এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরবর্তীতে পুলিশ জানতে পারে, এটি মূলত পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত একটি মামলা। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই তারা চলে যায়। মামলার বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ওসি। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে কোনো পারিবারিক বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রয়েছেন। এ ঘটনার পর মেসে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।