ইসরাইলের ২৭ কূটনীতিককে বহিষ্কারের প্রস্তুতি ব্রিটেনের

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬

অধিকৃত কুদসে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ বাতিল না করলে ইসরাইলের ২৭ জন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারকে বহিষ্কারের বিষয়ে তেল আবিবকে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়াল্টার্স ইসরাইলি কর্মকর্তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।

লন্ডনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অধিকৃত কুদসে ব্রিটিশ মিশন বন্ধের জেরে যে প্রতি ব্রিটিশ কর্মীর কূটনৈতিক মর্যাদা বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে একজন করে ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হবে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, আবার খবরটি অস্বীকারও করেনি।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) মধ্যে কনস্যুলেটটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর কর্মীদের কূটনৈতিক স্বীকৃতি বা পরিচয়পত্র বাতিল করেছেন। শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত এই মিশনটি তেল আবিবের ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে আলাদাভাবে কাজ করে এবং পূর্ব আল-কুদস, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য রাজনৈতিক ও কনস্যুলার সেবা প্রদান করে। গত মাসে ইসরাইলের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্স ও কানাডার পাশাপাশি ব্রিটেনও পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের বসতিগুলো অবৈধ। ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং লেবার সরকারের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তিনি গাজার একটি সমন্বয় কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার, ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ বন্ধ এবং জেরেমি করবিনসহ ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, কনস্যুলেটটি খোলা রাখার লক্ষ্যে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল গত সপ্তাহে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অধিকৃত অঞ্চলগুলো সফর করলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মিশনটি বন্ধ করা হবে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ পররাষ্ট্র দপ্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন যে কনস্যুলেট বন্ধ করার কোনো আইনি অধিকার ইসরাইলি সরকারের নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই মিশন বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে শহরটির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া হচ্ছে। গ্রিভের মতে, কনস্যুলেট বন্ধ হলে তার নেতিবাচক প্রভাব মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপরই পড়বে এবং লন্ডনে থাকা ইসরাইলি দূতাবাসের কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যেখানে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো রাষ্ট্রদূত নেই।