দেশের আট বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব করা হবে

প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা ও স্টক মার্কেট কারসাজির মতো আধুনিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং এর তদন্ত প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।

বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টে যাওয়ার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল দুনিয়া ও সাইবার স্পেসের পাশাপাশি স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমেই সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্তে আধুনিক ল্যাবের বিকল্প নেই। তাই সরকার দ্রুত আট বিভাগে এই ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল বিশ্লেষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৮ বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিক সুবিধায় আরও সমৃদ্ধ করা হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন Agency (কোইকা) সহযোগিতা প্রদান করেছে। মন্ত্রী এই সহায়তার জন্য কোরিয়া সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এই ল্যাব সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরি সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কাছে সহায়তা চাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ও ভিসেরাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ল্যাবগুলোর পরিসর বাড়ানো জরুরি। বিচারিক কার্যক্রমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ প্রায়ই হামলার শিকার হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশকে বাধা দেওয়া কিংবা সহায়তা করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির ও সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনসহ পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।